রাজনীতিসর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচনী আচরণবিধি: ‘এক অপরাধে তিন সাজা’র অভিযোগ রুমিন ফারহানার, প্রশ্ন তুললেন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। তার দাবি, বর্তমান প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে এবং একই কথিত অপরাধের জন্য তাকে তিনবার শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। সোমবার বিকেলেছবি: প্রথম আলো

সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

‘এক অপরাধে তিন সাজা’র ব্যাখ্যা
সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা ১৭ জানুয়ারি সরাইলের ইসলামাবাদ এলাকার একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেখানে কোনো জনসভা নয়, বরং একটি ছোট উঠান বৈঠক ছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তিনি তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “ওই একটি ঘটনার জের ধরে প্রশাসন আমার ওপর তিন ধাপে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রথমত, তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দ্বিতীয়ত, সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে চিঠি পাঠান। তৃতীয়ত, রিটার্নিং কর্মকর্তা তথা জেলা প্রশাসক আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠান। অর্থাৎ, এক অপরাধে আমাকে তিনবার সাজা দেওয়া হলো। যারা এতটা পক্ষপাতদুষ্ট, তাদের অধীনে আমি কীভাবে নির্বাচন করব?”

চিঠির গোপনীয়তা ও ফেসবুক ভাইরাল প্রসঙ্গ
প্রশাসনিক নথিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি বলেন, সরকারি চিঠি তার হাতে পৌঁছানোর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত দুই দিনে ফেসবুকে দুটি চিঠি ভাসতে দেখেছি। ১৭ তারিখের চিঠি ওই রাতেই এবং ১৮ তারিখ সকালে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ সেই চিঠি তখনো আমি পাইনি। যে ইউএনও অফিস একটি চিঠির গোপনীয়তা দুই ঘণ্টাও রক্ষা করতে পারে না, তারা নির্বাচনের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ কীভাবে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবেন, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে।”

বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ও প্রতিপক্ষের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য
সরকারি চিঠিতে ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন’-এর যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন রুমিন। তিনি বলেন, “আমি মূলত বুঝিয়েছিলাম যে অন্য প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। কিন্তু চিঠিতে উল্টো দাবি করা হয়েছে আমি নাকি ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই আসনের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক প্রার্থী (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম) মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের প্রচারণাকালে তাকে লক্ষ্য করে ‘নর্তকী’ ও ‘টিস্যু পেপার’-এর মতো অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। রুমিন ফারহানার প্রশ্ন, “লিঙ্গ পরিচয় তুলে ধরে এবং মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে যখন আমাকে আক্রমণ করা হয়, তখন জেলা প্রশাসক বা প্রশাসন কেন নীরব ভূমিকা পালন করে?”

আইনি এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচনী আচরণবিধির ২৬ ধারার প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসকের শোকজ নোটিশ দেওয়ার এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন। তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটির কাছে ইউএনও চিঠি দিয়েছেন। সেখানে জেলা প্রশাসক আমাকে কেন সশরীরে উপস্থিত হতে আদেশ দেবেন? উপস্থিত না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার যে কথা বলা হয়েছে, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তা আমি দেখার অপেক্ষায় আছি।”

প্রশাসনের বক্তব্য
রুমিন ফারহানার এসব অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান তা নাকচ করে দেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, প্রার্থীর অভিযোগগুলো মনগড়া।

জেলা প্রশাসক বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে যেকোনো প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া একটি স্বাভাবিক দাপ্তরিক প্রক্রিয়া। তিনি (রুমিন ফারহানা) তার জবাব দেবেন এবং আমরা তা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করব। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রতিদিন মাঠে কাজ করছেন এবং বিধি লঙ্ঘন দেখলেই জরিমানা বা উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছেন। আজকেও এক প্রার্থীর মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই।”

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *