onuktonews.com

পোস্টাল ভোটের ‘ব্ল্যাক বক্স’: স্বচ্ছতা নিয়ে শঙ্কা বনাম প্রবাসীদের ভোটাধিকার

দেশের মোট ভোটারের মাত্র ১ শতাংশ হলেও এবারের নির্বাচনে ‘পোস্টাল ভোট’ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। মূলত প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ এবং অ্যাপ-ভিত্তিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া একে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তবে এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

পোস্টাল ভোট বিডিছবি: বাসস

প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও ‘ব্ল্যাক বক্স’ তত্ত্ব
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াটিকে ‘ব্ল্যাক বক্স’-এর সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, “যে পদ্ধতিতে ভোট নেওয়া হচ্ছে, তাতে স্বচ্ছতার ঘাটতি থাকার ঝুঁকি রয়েছে। প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ব্যালট পাঠানো হয়েছে এবং শোনা যাচ্ছে প্রার্থী ঠিক হওয়ার আগেই অনেকে ভোট দিয়ে দিচ্ছেন। এটি কারসাজির সুযোগ তৈরি করতে পারে।”

তাছাড়া পোস্টাল ব্যালটের একটি বড় অংশ গন্তব্যে পৌঁছায় না বা নষ্ট হয়। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর মতে, বিশ্বব্যাপী পোস্টাল ব্যালট নষ্ট হওয়ার হার প্রায় ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি চারটি ভোটের একটি গণনা পর্যন্ত পৌঁছায় না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ব্যালট না পৌঁছালে তা গণনা করা হবে না, যা ১৫ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

আইনি ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন
আগে পোস্টাল ভোটের সুযোগ থাকলেও তা ছিল সীমিত এবং জটিল। এবার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে আইটি সাপোর্টেড ব্যবস্থায় নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ৫ জানুয়ারির মধ্যে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের দায়িত্ব। গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের এনআইডি ব্লক করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব
আসন্ন নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে মাত্র ১৫ লাখ পোস্টাল ভোটার হলেও, গণভোটের প্রেক্ষাপটে প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জুলাই সনদের সংবিধান সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীদের এই ভোট অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

তবে শেষ পর্যন্ত কতগুলো ব্যালট সঠিক সময়ে ইসির হাতে পৌঁছাবে এবং কোনো আসনে পোস্টাল ভোটের কারণে ফলাফল নির্ধারিত হলে পরাজিত প্রার্থীরা তা মেনে নেবেন কি না—তা দেখার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Analysis | Habibur Rahman

Exit mobile version