বাংলায় আরবি-ফার্সি শব্দের ব্যবহারে কেন একটি গোষ্ঠীর গাত্রদাহ?

আপনাদের সবারই জানা আছে, তমুদ্দিন মজলিসের নেতৃত্ব ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। আবুল কাসেম ছিলেন যার শীর্ষ নেতা।

আপনারা এটাও জানেন , তমুদ্দিন’ এবং ‘মজলিস’ এই শব্দ দুটি আরবি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

আরো জানেন, ৮ই ফ্লাগুন বা ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে এই র/ক্ত ঝরার ইতিহাস লেখা হয়। যেখানে সালাম, বরকত ,রফিক ,জব্বার শ/হীদ হোন।

কথা হলো, বাংলা ভাষায় ‘খাঁটি বাংলা’ বলতে মূলত তদ্ভব শব্দগুলোকে বোঝানো হয়। এগুলো প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা (সংস্কৃত) থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে বিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে। ভাষাবিদদের মতে, বাংলা ভাষার মোট শব্দভাণ্ডারের প্রায় ৬০ শতাংশই এই তদ্ভব বা খাঁটি বাংলা শব্দ

বাকি ৪০ শতাংশ তো বিদেশি ভাষার উপর নির্ভর। তাহলে ইংরেজি , হিন্দি , ফরাসি ,পর্তুগীজ শব্দে সমস্যা হয় না। শুধু আরবি আর ইসলামিক ভাবের উর্দু, ফার্সি শব্দগুলোতে বাম কালচারাল গোষ্ঠীর যত বেদনা আর জ্বালা কেন বুঝতে অসুবিধা হবে না আশা করি।

খারাপ লাগে, যারা কালচারাল জায়গাতে মুসলিম তাহজিব তমুদ্দিন নিয়ে কাজ করেন তাদের মধ্যে কিছু লোক শুধু একটা দলীয় মতাদর্শের জায়গাতে এসে আটকে যাচ্ছেন। এরা ওয়াইড হতে পারছেন না। কেবল অন্ধকারে নেতা হওয়ার আশায় নিজের অস্তিত্বকে বিলিন করে দিচ্ছেন।

ভিন্ন মতের অথচ তাহজিব তমুদ্দিনের চিন্তায় মোটামুটি পাশাপাশি জায়গাতে আছেন , এমন লোককে দেখি পোস্ট করেন যে, ধর্মীয় লেবাসে আজাদী ,ইনসাফ এবং ইনকিলাব নাকি একটা গোষ্ঠী ব্যবহার করছে। আরে ভাই, এই শব্দ গুলোতে মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে ওতোপ্রোতো ভাবেই যুক্ত। তাহলে ধর্মীয় চিন্তার লোকজনই তো এটা করা স্বাভাবিক নয় কি?

আমি বলি কি, যারা কালচারাল জায়গাতে কাজ করেন তাদের উচিত মুসলিম জাতি সত্ত্বার পরিচয় নিয়ে পড়ালেখা বাড়ানো। নয়তো শুধু পদ পদবীর জন্য বেখ ধরে ময়ূখ সাজে লাভ নাই। থলের গভীরতা সহজে বের হয়ে যাবে।

কেননা, মতপার্থক্যের জায়গায় ভিন্নতা থাকলেই খারিজি চিন্তা লালন করতে পারা একটা অসুখ।

সেটা বাম আর আওয়ামী বয়ানের জন্য ঠিক আছে। এখন নেতা হতে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব কি অস্বীকার করবেন নাকি আকড়ে ধরে থাকবেন সেটা আপনার চিন্তার উর্বরতা বা নিচতার উপর নির্ভর করছে।

যদি কোর নেতা হও তাহলে এমন স্বাভাবিক মনে করতে পারি। কারণ কবি বলেছেন –
‘রাজনীতিকের ধমনী শিরায় সুবিধাবাদের পাপ’!

® ®অনুক্ত কামরুল

Exit mobile version