জাতীয় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন হবে কি না, তা চূড়ান্ত হবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে। এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার অর্থই হলো জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।
মঙ্গলবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এবারের নির্বাচন গতানুগতিক সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেকগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রস্তাব। ভোটারদের সামনে সুযোগ আসবে সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দেওয়ার। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংস্কার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো অপরিবর্তিত থেকে যাবে, যা ভবিষ্যৎ শাসকদের আবারও স্বৈরাচারী আচরণের সুযোগ করে দিতে পারে।
জুলাই সনদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট ছিল তিনটি—নিরপেক্ষ নির্বাচন, কাঠামোগত সংস্কার এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গন থেকে ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন দুর্বৃত্তায়ন’ দূর করার তাগিদ দেন।
সংলাপে সুজন সম্পাদক রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার দাবি করেন। এর মধ্যে রয়েছে—শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা, অর্থনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর পদক্ষেপ। তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তরুণ প্রজন্মের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও মেধার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীরসহ দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। এছাড়াও বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি, জামায়াত নেতা মো. হেলাল উদ্দিন, গণফোরামের মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের নেতারা তাদের দলের অবস্থান ও সংস্কার ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা সকলেই একমত হন যে, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রাষ্ট্র সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
Analysis | Habibur Rahman