onuktonews.com

গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড জটিলতা নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য মানতে হবে যেসব নিয়ম

নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এর মধ্যে অন্যতম হলো থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা। থাইরয়েড গ্রন্থি নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন মানবদেহের বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন গর্ভাবস্থায় এই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

ঝুঁকি এড়াতে সঠিক পরিকল্পনা
ডা. তানজিনা হোসেনের মতে, যাদের আগে থেকেই থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই সন্তান ধারণের পরিকল্পনার শুরুতেই হরমোন পরীক্ষা করে ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে বা কমিয়ে নিরাপদ অবস্থানে আনতে হবে। যারা নিজেদের সুস্থ মনে করছেন, তাদেরও গর্ভাবস্থার আগে বা গর্ভাবস্থার একদম শুরুতে এই স্ক্রিনিং করা উচিত।

চিকিৎসা ও সতর্কতা
গর্ভকালীন সময়ে থাইরয়েডের চিকিৎসা বেশ সংবেদনশীল। কারণ এ সময় প্রচলিত সব চিকিৎসাপদ্ধতি বা ওষুধ পুরোপুরি নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। বর্ডার লাইন বা প্রান্তিক পর্যায়ে সমস্যা থাকলেও তা অবহেলা করা যাবে না।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, গর্ভাবস্থায় হরমোনের মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করতে পারে। তাই কারো যদি হরমোনের ঘাটতি বা আধিক্য ধরা পড়ে, তবে চিকিৎসা শুরুর পাশাপাশি নিয়মিত ফলো-আপ জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর পর হরমোন পরীক্ষা করে দেখতে হবে মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না।

অবহেলার পরিণাম
সময়মতো থাইরয়েড সমস্যার চিকিৎসা না করালে মা ও শিশু উভয়েই দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তির শিকার হতে পারেন। মায়ের ক্ষেত্রে রক্তশূন্যতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রসবকালীন জটিলতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া সহ জন্মগত ত্রুটি নিয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।

সুতরাং, একটি সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্মের জন্য এবং নিরাপদ মাতৃত্বের স্বার্থে গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।

Analysis | Habibur Rahman

Exit mobile version