onuktonews.com

এক হাতে প্রযুক্তি জোটের প্রস্তাব, অন্য হাতে শুল্কের চাবুক: মোদির সামনে কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে এক অদ্ভুত কূটনৈতিক সংকট তৈরি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে যখন সিলিকন ভ্যালি ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে ভারতকে পাশে চাইছে ওয়াশিংটন, ঠিক তখনই ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ভারতের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক খড়গ নামিয়ে আনল ট্রাম্প প্রশাসন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদিফাইল ছবি: এএফপি

নতুন রাষ্ট্রদূতের আগমন ও ‘প্যাক্স সিলিকা’ স্বপ্ন
সোমবারই দিল্লিতে পা রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তিনি ভারতের সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বার্তা দিয়েছেন। সার্জিও গোর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি জোট ‘প্যাক্স সিলিকা’-তে ভারতকে পূর্ণ সময়ের সদস্য হিসেবে দেখতে চান তাঁরা। এই জোটে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মতো দেশ রয়েছে। মূলত সেমিকন্ডাক্টর, সিলিকন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে চীনের দাপট কমাতেই এই জোট। মঙ্গলবার থেকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা শুরু হওয়ার কথাও রয়েছে।

ট্রাম্পের ট্রুথ স্যোশাল বার্তা ও বাস্তব চিত্র
রাষ্ট্রদূতের এই ইতিবাচক বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের ‘ট্রুথ স্যোশাল’ পোস্ট সব হিসাব উল্টে দিয়েছে। ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও দমনপীড়নের (যাতে ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ) জেরে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। ভারতের জন্য এটি ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’র মতো। কারণ, ভারত এমনিতেই রুশ তেল কেনার দায়ে এবং সাধারণ শুল্ক মিলিয়ে ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা বহন করছে।

দিল্লির উভয়সংকট
ভারত ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে। যদিও জ্বালানি কেনা কমেছে, তবুও কৃষিপণ্য ও রাসায়নিক দ্রব্যের বাণিজ্যে ইরান ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এখন প্রশ্ন হলো, ভারত কি যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটে যোগ দিয়ে প্রযুক্তির সুবিধা নেবে, নাকি ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ শতাংশ শুল্কের ধাক্কা সামলাবে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান এবং সোমবার রাত থেকেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ঘোষণা ভারতের পররাষ্ট্রনীতির জন্য এক বড় পরীক্ষা। একদিকে কৌশলগত প্রযুক্তি জোটের হাতছানি, অন্যদিকে বাসমতী চাল ও চায়ের বাজার হারানোর ভয়— এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এখন ভারসাম্য রক্ষার কঠিন পথ খুঁজতে হবে দিল্লিকে।

Analysis | Habibur Rahman

Exit mobile version