বঙ্গভবনের পরবর্তী উত্তরসূরি কে? আলোচনায় বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সব কৌতূহল আবর্তিত হচ্ছে বঙ্গভবনকে ঘিরে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা গঠনের সমান্তরালে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?

বিএনপির দলীয় সূত্র এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে দলটির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম। তাঁর পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও। তবে জ্যেষ্ঠতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমীকরণে খন্দকার মোশাররফ হোসেনই এই দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে আছেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
কেন আলোচনায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন?
৭৯ বছর বয়সী প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ এবার কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক কেবল একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যই নন, এর আগে তিনি জ্বালানি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। দলটির একাংশের মতে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে তাঁর ভূমিকা এবং তাঁর দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা তাঁকে এই পদের জন্য যোগ্যতম করে তুলেছে।
এছাড়া বিএনপির ভেতরে একটি দীর্ঘস্থায়ী আলোচনাও রয়েছে যে, দল ক্ষমতায় এলে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ২০২৩ সালে বগুড়ার এক জনসভায় বিএনপি নেতা জি এম সিরাজও এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে তিনি দলের কার্যক্রমে কিছুটা আড়ালে থেকে নিজেকে বিতর্কমুক্ত রাখার চেষ্টা করছেন, যা রাষ্ট্রপতি পদের মতো একটি সাংবিধানিক অবস্থানের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম খানের ভূমিকা কী হতে পারে?
রাষ্ট্রপতি হিসেবে নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় থাকলেও দলের একটি শক্তিশালী অংশ তাঁকে সরকারের প্রশাসনিক বা নীতি-নির্ধারণী কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখার পক্ষে। বিশেষ করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর দক্ষতা এবং দলের সংকটে রাজপথের সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ পদের জন্য যোগ্য দাবিদার করে তুলেছে। সদ্যপ্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দলের পক্ষে তাঁর বক্তব্য রাখা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে সরকার পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতির অবস্থান ও আইনি প্রেক্ষাপট
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও, তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। গত বছরের ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর তিনি আর এই পদে থাকতে আগ্রহী নন। এমনকি তাঁর ছবি বা প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে তাঁর বিদায় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কখন?
বিএনপি সূত্রগুলো বলছে, আগামীকাল মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। দলের হাইকমান্ড থেকে সবুজ সংকেত পেলেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করা হবে, তা স্পষ্ট হবে। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়ার দৌড়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনই দলীয় পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।
তথ্যসূত্র: দলীয় সূত্র ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি।

