বিশ্বসর্বশেষ সংবাদ

তেহরানের রাজপথে আগুনের লেলিহান শিখা: অর্থনৈতিক বিক্ষোভে মৃত্যু ও দমন-পীড়নের ভয়াবহ চিত্র

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জেরে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সহিংস সংঘাতের রূপ নিয়েছে। টানা দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় দেশটির বিভিন্ন শহর কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের সরকারি মহলের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরানের সড়কে বিক্ষোভকারীরা। জ্বলছে আগুন। ৮ জানুয়ারি ২০২৬, তেহরানছবি: রয়টার্স

সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ এবং ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে বহির্বিশ্ব থেকে ইরান প্রায় বিচ্ছিন্ন। কিন্তু এর মধ্যেই গত এক সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে রাতের অন্ধকারের ভয়াবহ চিত্র। ভিডিওগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে গোলাগুলি, সরকারি ভবন ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য উঠে এসেছে। তেহরানের রাস্তায় জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা জানান দিচ্ছে পরিস্থিতির তীব্রতা।

ইরান সরকার এই পরিস্থিতির জন্য বরাবরের মতোই বিদেশি শক্তির হাত দেখছে। তাদের দাবি, আন্দোলনকারীরা নয়, বরং ছদ্মবেশী সন্ত্রাসীরাই এই হত্যার জন্য দায়ী। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, নির্বিচারে গুলি ও হাজার হাজার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকার ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করছে।

ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি গত কয়েক বছর ধরেই নাজুক। এর ওপর গত বছর আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে সরকার একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে রাস্তায় নামা মানুষদের কঠোরভাবে দমন করছে—যা দেশটির ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে।

তথ্য প্রবাহের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা স্বাধীন সংস্থাগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তার দেওয়া ২ হাজার মৃত্যুর তথ্য প্রমাণ করে, পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং এটি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত অধ্যায় হতে যাচ্ছে।

Analysis | Habibur Rahman

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *