অপরাধ দমনের আড়ালে ভিন্নমত দমন? ট্রাম্পের ভিসা বাতিল নীতিতে শঙ্কিত মানবাধিকারকর্মীরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর অভিবাসন নীতিতে যে কঠোর পরিবর্তন এনেছেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রশাসন দাবি করছে তারা অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় বৈধ ভিসাধারী এবং ভিন্নমতাবলম্বীদেরও নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে। গত এক বছরে ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষার্থী ও অ্যাকটিভিস্টদের ওপর খড়গ
নভেম্বরে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন শুধুমাত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণেও ভিসা বাতিল করছে। গত মার্চে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাহারের অভিযান শুরু হয়। এছাড়া, রক্ষণশীল অ্যাকটিভিস্ট চার্লি কার্কের মৃত্যু নিয়ে ‘উদ্যাপন’ করার অভিযোগে গত অক্টোবরে ছয়জন বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করার নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে।
সমালোচকদের মতে, যারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন বা রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মেরুর, তাদের বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী।
কূটনীতিকদের প্রতি নতুন নির্দেশনা
পররাষ্ট্র দপ্তর মার্কিন কূটনীতিকদের ভিসা আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন কঠোরতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ কি না কিংবা তাদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস কী—সেগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদনকারীদের কার্যকলাপ পরীক্ষার পরিসরও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
বৈধ ভিসাধারীদের আতঙ্ক
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও অনেককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ভিসা বাতিলের হার দেড়গুণ বেড়েছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে ছোটখাটো চুরির অভিযোগে প্রায় ৮০ হাজার অস্থায়ী ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া (Due Process) অনুসরণ করা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় নাম থাকার কারণে মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি—‘মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অপরাধী তাড়ানো কর্মসূচি’ হিসেবে দেখলেও, অভিবাসী কমিউনিটিতে এটি চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
Analysis | Habibur Rahman
